পরিচিতি
চিকিৎসক, শিক্ষক, গবেষক ও উদ্ভাবক — একটি করে কৌশল আর একজন করে শিক্ষার্থী নিয়ে বাংলাদেশে আধুনিক গ্লুকোমা চিকিৎসা গড়ে তোলার কাজ।
জীবনী
ডা. মো. ইফতেখার ইকবাল ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটাল, ঢাকা-র চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং একজন কনসালট্যান্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ। তাঁর বিশেষায়িত ক্ষেত্র গ্লুকোমা, ছানি এবং জটিল এন্টেরিয়র সেগমেন্ট সার্জারি। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ আই হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় রোগী দেখেন।
পেশাগত জীবনের একেবারে শুরু থেকেই তিনি ইন্টারভেনশনাল গ্লুকোমা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছেন — অর্থাৎ এই বিশ্বাস নিয়ে যে গ্লুকোমার চিকিৎসায় বছরের পর বছর ড্রপ বাড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে শুরুতেই কার্যকর ও প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বাংলাদেশে যখন এই ভাবনা প্রায় অনুপস্থিত ছিল, তখন তিনি তাঁর প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও সার্জিক্যাল দক্ষতা এই দর্শনকে কেন্দ্র করেই গড়ে তোলেন।
এই অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বাংলাদেশে MIGS-এর পথিকৃৎ হিসেবে। দেশে সর্বপ্রথম TrabEx Pro, গনিওস্কোপি-অ্যাসিস্টেড ট্রান্সলুমিনাল ট্র্যাবেকুলোটমি (GATT) এবং বেন্ট অ্যাব ইন্টারনো গনিএক্টমি (BANG) পদ্ধতি চালু করেন তিনি; প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক ইনডেক্সড জার্নালে MIGS-এর কেস প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে সীমিত সম্পদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাতেও স্বল্প আঘাতযুক্ত গ্লুকোমা অস্ত্রোপচার একটি বাস্তবসম্মত চিকিৎসা-মান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সম্মেলনে আমন্ত্রিত ফ্যাকাল্টি, আমন্ত্রিত বক্তা ও উপস্থাপক হিসেবে অংশ নেন — যার মধ্যে রয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্লুকোমা কংগ্রেস (APGC), এশিয়া-প্যাসিফিক একাডেমি অব অফথালমোলজি (APAO) কংগ্রেস, ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব ক্যাটারাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাক্টিভ সার্জনস (ESCRS) কংগ্রেস, ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব অফথালমোলজি (SOE) কংগ্রেস, এশিয়া-প্যাসিফিক ভিট্রিও-রেটিনা সোসাইটি (APVRS) কনফারেন্স, নেপাল অফথালমিক সোসাইটি কনফারেন্স (NOSCON) এবং নেপাল গ্লুকোমা সোসাইটি (NGS) কনফারেন্স।
তিনি নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক ইনডেক্সড জার্নালের পিয়ার রিভিউয়ার হিসেবে কাজ করেন — এর মধ্যে রয়েছে European Journal of Ophthalmology (EJO), Journal of Glaucoma, Clinical Ophthalmology, Critical Public Health, Clinical Case Reports, Cureus এবং Journal of International Medical Research। পাশাপাশি তিনি রেসিডেন্ট ও ফেলোদের প্রশিক্ষণ দেন এবং MIIQ সার্জিক্যাল শিক্ষামূলক ভিডিও সিরিজ তৈরি করেন।
স্বীকৃতি
এশিয়া-প্যাসিফিক একাডেমি অব অফথালমোলজি কর্তৃক তরুণ চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে "রাইজিং স্টার" স্বীকৃতি।
APGC, APAO, ESCRS, SOE, APVRS, NOSCON ও NGS-সহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মেলনে আমন্ত্রিত ফ্যাকাল্টি, বক্তা ও উপস্থাপক।
APAO ২০২৪ ও APVRS ২০২৪-এ আন্তর্জাতিক ট্রাভেল গ্রান্ট লাভ, যা বিদেশে বাংলাদেশি গবেষণা উপস্থাপনে সহায়তা করেছে।
তরুণ চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের জন্য NeYOCON ২০২৬-এ স্বীকৃতি।
এশিয়া-প্যাসিফিক গ্লুকোমা সোসাইটির ইয়াং গ্লুকোমা এক্সপার্ট প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট বোর্ড মেম্বার।
EGS-এর এক্সট্রাঅর্ডিনারি মেম্বার, যা বাংলাদেশের গ্লুকোমা চিকিৎসাকে বৈশ্বিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
European Journal of Ophthalmology, Journal of Glaucoma, Clinical Ophthalmology, Critical Public Health, Clinical Case Reports, Cureus ও Journal of International Medical Research-এর নিয়মিত রিভিউয়ার; Cureus Laureate সনদপ্রাপ্ত।
The Ophthalmologist, CAKE Magazine ও Media MICE-এর MiceTV-তে ফিচার; দেশে এটিএন নিউজসহ জাতীয় টেলিভিশনে উপস্থিতি।
পথচলা
চক্ষুবিজ্ঞানে নিবেদিত এক পেশাগত জীবনের সূচনা।
দেশের শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণ।
ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটাল, ঢাকায় সাব-স্পেশালিটি প্রশিক্ষণ।
স্বল্প খরচের একটি মৌলিক ডায়াগনস্টিক উদ্ভাবন প্রকাশ, একই সঙ্গে দেশের প্রথম স্বল্প আঘাতযুক্ত গ্লুকোমা অস্ত্রোপচার।
এশিয়া-প্যাসিফিক একাডেমি অব অফথালমোলজি থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
APAO ২০২৪ ও APVRS ২০২৪ — উভয় সম্মেলনেই ট্রাভেল গ্রান্ট প্রাপ্তি।
বাংলাদেশ থেকে উদ্ভাবিত দুটি মৌলিক কৌশল আন্তর্জাতিক গবেষণা-সাহিত্যে অন্তর্ভুক্ত।
আন্তর্জাতিক চক্ষু-গণমাধ্যম কর্তৃক প্রদত্ত অভিধা।
সিঙ্গাপুরের খ্যাতিমান গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ ডা. চেলভিন সং-এর সঙ্গে ফিচার, এবং Media MICE-এর CAKE Magazine-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন।
প্রি-থ্রেডেড নিডল-অ্যাসিস্টেড mCTR স্ক্লেরাল ফিক্সেশন এবং সিনস্কি হুক-গাইডেড পোস্টেরিয়র ক্যাপসুলার প্লাক পিলিং।
NeYOCON ২০২৬-এ প্রদত্ত।